ভূমিকা

গ্রিনল্যান্ড কেন ডেনমার্কের অংশ এই প্রশ্নটি প্রায়ই আলোচনায় আসে। ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকার অংশ হলেও, ২১ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের এই বিশাল বরফাচ্ছাদিত দ্বীপটি ৩,০০০ কিলোমিটার দূরের ছোট্ট ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্কের পকেটে কীভাবে রয়ে গেল, তা এক অদ্ভুত ঐতিহাসিক সমীকরণ। আজকের পর্বে আমরা আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করব, গ্রিনল্যান্ড কেন ডেনমার্কের অংশ

প্রথম ভাইকিং বসতি এবং রহস্যময় অন্তর্ধান

এই গল্পের শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে হাজার বছর আগে এক নির্বাসিত ভাইকিং, এরিক দরেডের হাত ধরে। খুনের দায়ে আইসল্যান্ড থেকে নির্বাসিত হয়ে তিনি ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে নিজের পরিবার ও কিছু অনুসারী নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের অজানা পশ্চিমে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর তিনি বরফে ঢাকা রুক্ষ এক ভূখণ্ডে পৌঁছান। ধুরন্ধর এরিক এই দ্বীপটির নাম দিলেন “গ্রিনল্যান্ড” বা সবুজ ভূমি, যা ইতিহাসবিদদের মতে “হিস্ট্রিস ফার্স্ট মার্কেটিং স্ক্যাম” ছিল। এই মিথ্যা আশ্বাসে প্রলুব্ধ হয়ে প্রায় ২৫টি জাহাজে করে কয়েকশো ভাইকিং তার সাথে নতুন এই দেশে পাড়ি জমায়, যদিও মাত্র ১৪টি জাহাজ শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিল। তারা গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে বসতি গড়ে তোলে এবং প্রায় ৫০০ বছর ধরে সেখানে টিকেছিল। তারা ইউরোপের সাথে সিল মাছের চামড়া, ওয়াল রাসের দাঁত এবং মেরু ভাল্লুকের চামড়ার ব্যবসা করতো। ১৫০০ শতকের দিকে হঠাৎ করে এই ভাইকিংরা গ্রিনল্যান্ড থেকে উধাও হয়ে যায়। গবেষকরা মনে করেন, হঠাৎ করে পৃথিবী জুড়ে শুরু হওয়া লিটলাইজেস এবং স্থানীয় ইনুইট আদিবাসীদের সাথে সংঘর্ষে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। ইউরোপের সাথে তাদের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং প্রায় ৩০০ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ড বিশ্বমঞ্চের আড়ালে একাকী পড়ে থাকে।

ডেনমার্কের পুনরায় দাবি এবং ঔপনিবেশিক শাসন

ভাইকিংরা হারিয়ে যাওয়ার প্রায় ৩০০ বছর পর, ১৭২১ সালে আবার গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর পড়ে ইউরোপের। এবার মঞ্চে আসেন এক ড্যানিশ-নরওয়েজিয়ান ধর্মযাজক হ্যান্স এজেডে। তৎকালীন সময়ে ডেনমার্ক এবং নরওয়ে ছিল একটি যুক্তরাজ্য। কোপেনহেগেন থেকে রাজা চতুর্থ ফ্রেডরিক হ্যান্স এজেডেকে গ্রিনল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তাদের ধারণা ছিল শত শত বছর আগে যাওয়া ভাইকিংরা হয়তো এখনো সেখানে বেঁচে আছে এবং তারা তখনও ক্যাথলিক রয়ে গেছে। তাদের প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছে হ্যান্স এজেডে অবাক হয়ে গেলেন। তিনি কোনো ভাইকিং খুঁজে পেলেন না, পেলেন স্থানীয় ইনুইট জনগোষ্ঠীকে। ভাইকিংরা না থাকলেও, ডেনমার্কের রাজা দাবি করলেন, যেহেতু ভাইকিংরা একসময় আমাদের পূর্বপুরুষ ছিল, তাই এই দ্বীপ আমাদেরই। এভাবেই ১৭২১ সালে নতুন করে গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয়। গল্পের আসল মোড় আসে ১৮১৪ সালে। নেপোলিয়নিক যুদ্ধে ডেনমার্ক পরাজিত দলে ছিল, অন্যদিকে সুইডেন ছিল বিজয়ী দলে। যুদ্ধের পর স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক ট্রিটি অফ কিয়েল। এই চুক্তিতে পরাজিত ডেনমার্ককে বাধ্য করা হয় নরওয়েকে সুইডেনের কাছে হস্তান্তর করতে। কিন্তু ড্যানিশ কূটনীতিকরা এক অসামান্য চাল চাললেন। চুক্তির সূক্ষ্ম একটি ধারায় তারা উল্লেখ করলেন, নরওয়ে সুইডেনের অংশ হবে ঠিকই, কিন্তু আটলান্টিক মহাসাগরে নরওয়ের পুরনো কলোনিগুলো যেমন আইসল্যান্ড, ফারো আইল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের দখলেই থাকবে। সুইডেন তখন নরওয়েকে পাওয়ার আনন্দে এতটাই মশগুল ছিল যে তারা এই বরফে ঢাকা দ্বীপগুলোর দিকে নজর দেয়নি। আর এভাবেই এক কলমের খোঁচায় ভৌগোলিকভাবে নরওয়ের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ড হয়ে গেল ডেনমার্কের সম্পত্তি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপট

১৯৪০ সাল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে। হিটলারের নাৎসি বাহিনী মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে ডেনমার্ক দখল করে নিল। কোপেনহেগেনে বসে ড্যানিশ রাজা এবং সরকার কার্যত নাৎসিদের পুতুলে পরিণত হলো। তখন আটলান্টিকের ওপারে ওয়াশিংটনে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ছিলেন হেনরিক কফল্যান। তিনি জানতেন, ডেনমার্ক দখল করার পর হিটলারের নজর এখন গ্রিনল্যান্ডের দিকে পড়বে, কারণ গ্রিনল্যান্ড থেকে আমেরিকা এবং কানাডায় বোমারু বিমান চালানো খুব সহজ। হেনরিক কফল্যান এক দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি তার নিজের সরকার অর্থাৎ জার্মানি নিয়ন্ত্রিত ড্যানিশ সরকারের আদেশ অমান্য করলেন। তিনি নিজেকে স্বাধীন ডেনমার্কের প্রতিনিধি ঘোষণা করলেন এবং আমেরিকার সাথে সরাসরি এক চুক্তি স্বাক্ষর করলেন। ১৯৪১ সালের সেই চুক্তিতে তিনি আমেরিকাকে বললেন, আপনারা গ্রিনল্যান্ডে আসুন, ঘাটি গাড়ুন এবং নাৎসিদের হাত থেকে এই দ্বীপকে রক্ষা করুন। আমেরিকা এমন সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল। তারা দ্রুত গ্রিনল্যান্ডে তাদের সেনা পাঠালো এবং বিশাল সব এয়ারবেস তৈরি করল, এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো থুলি এয়ারবেস। যুদ্ধের পর ডেনমার্ক স্বাধীন হলো, কিন্তু আমেরিকা গ্রিনল্যান্ড ছাড়তে চাইলো না। কারণ ততদিনে শুরু হয়ে গেছে এক নতুন যুদ্ধ, কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ু যুদ্ধ। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নজরদারি চালানোর জন্য গ্রিনল্যান্ড ছিল আমেরিকার কাছে তুরুপের তাস। ১৯৪৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ডেনমার্ককে প্রস্তাব দিলেন, তোমরা তো এই বরফের দ্বীপ দিয়ে কিছু করছো না, ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ড আমাদের কাছে বিক্রি করে দাও। সে সময় ১০০ মিলিয়ন ডলার ছিল অনেক বড় অঙ্ক, কিন্তু ডেনমার্ক সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। তারা বুঝতে পেরেছিল গ্রিনল্যান্ড শুধু বরফের স্তূপ নয়, এটি বিশ্ব রাজনীতিতে তাদের গুরুত্ব বজায় রাখার একমাত্র চাবিকাঠি। গ্রিনল্যান্ড আছে বলেই ছোট্ট ডেনমার্ক বিশ্বনেতাদের সাথে এক টেবিলে বসার সুযোগ পায়

স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীনতার স্বপ্ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে তখন কলোনি বা উপনিবেশ প্রথা বিলুপ্তির হাওয়া বইছে। জাতিসংঘ ডেনমার্ককে চাপ দিতে শুরু করল গ্রিনল্যান্ডকে স্বাধীনতা দেয়ার জন্য অথবা তাদের সমান অধিকার দেয়ার জন্য। ১৯৫৩ সালে ডেনমার্ক তাদের সংবিধান পরিবর্তন করল। গ্রিনল্যান্ডকে আর কলোনি হিসেবে না রেখে ডেনমার্কের একটি অ্যামট বা জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হলো। অর্থাৎ গ্রিনল্যান্ডের ইনুইটরা রাতারাতি ড্যানিশ নাগরিক হয়ে গেল এবং ডেনমার্কের পার্লামেন্টে তাদের প্রতিনিধি পাঠানোরও সুযোগ পেল। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের মানুষ এতে সন্তুষ্ট ছিল না। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা ডেনমার্কের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কোপেনহেগেন থেকে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করা মেনে নিতে পারছিল না গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকের অধিবাসীরা। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৭৯ সালে গ্রিনল্যান্ডকে হোমরুল বা স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয় এবং সর্বশেষ ২০০৯ সালে দেয়া হয় সেলফ রুল বা স্বশাসন। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থা অনেকটা এমন। তাদের নিজস্ব পার্লামেন্ট আছে, পুলিশ আছে এবং অভ্যন্তরীণ সব বিষয়ে তারা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু তাদের পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা এবং মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ করে ডেনমার্ক। তবে এর বিনিময়ে ডেনমার্ককে দিতে হয় চড়া মূল্য। প্রতিবছর ডেনমার্ক সরকার গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান বা ব্লক গ্র্যান্ট দেয়। গ্রিনল্যান্ডের মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি আসে ডেনমার্কের এই পকেট মানি থেকে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ডেনমার্ক বিশাল অঙ্কের টাকা লোকসান দিয়েও গ্রিনল্যান্ডকে ধরে রেখেছে শুধুমাত্র আর্কটিক সুপারপাওয়ার হিসেবে নিজেকে জাহির করার জন্য। গ্রিনল্যান্ড ছাড়া ডেনমার্ক শুধুই উত্তর ইউরোপের একটি সাধারণ দেশ। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড সাথে থাকায় আর্কটিক কাউন্সিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ডেনমার্কের একটি শক্তিশালী চেয়ার নিশ্চিত হয়েছে।

ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো গ্রিনল্যান্ডের মানুষ কী চায়? গ্রিনল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং অধিকাংশ জনগণ পূর্ণ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেন। তারা চান ডেনমার্কের পতাকা নামিয়ে পুরোপুরি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে। ২০০৯ সালের স্বশাসনের আইনে সেই সুযোগও রাখা হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড চাইলেই গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো অর্থনীতি। আজ যদি গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হয়, তবে কাল থেকেই ডেনমার্কের দেয়া সেই ৬০০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে। গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব অর্থনীতি মূলত মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল, যা দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র চালানো অসম্ভব। স্বাধীনতা পেতে হলে গ্রিনল্যান্ডকে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের দিকে ঝুঁকতে হবে। আর এখানে এসে যায় এক কঠিন উভয় সংকট বা প্যারাডক্স। খনি খুঁড়লে পরিবেশ নষ্ট হবে, ইনুইটদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে, যা তারা চায় না। আবার খনি না খুঁড়লে ডেনমার্কের টাকার গোলাম হয়ে থাকতে হবে। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হলে তারা কি নিজেদের রক্ষা করতে পারবে? নাকি রাশিয়া বা চীনের মতো কোনো পরাশক্তির খপ্পরে পড়বে? অনেকেই মনে করেন, গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হলে তা আসলে আমেরিকারই একটি অঘোষিত কলোনিতে পরিণত হবে। কারণ নেটো এবং আমেরিকা কখনোই গ্রিনল্যান্ডকে অরক্ষিত ছেড়ে দেবে না। ডেনমার্কের জন্য গ্রিনল্যান্ড হলো এক দামি অলঙ্কার, যা পড়ে থাকা যেমন ভারী, আবার খুলে ফেললে সম্মান থাকে না। আর আমেরিকার জন্য গ্রিনল্যান্ড হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আনসিঙ্কেবল এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার। ভূরাজনীতির এই দাবা খেলায় গ্রিনল্যান্ড এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘুঁটি। বরফ যত গলছে, এই দ্বীপকে ঘিরে পরাশক্তিদের লড়াই তত উষ্ণ হচ্ছে। ১৭২১ সালে হ্যান্স এজেডে যে দ্বীপটিকে অবহেলায় পেয়েছিলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে সেটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূখণ্ড। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ—এটি ইতিহাসের এক দুর্ঘটনা হতে পারে, কিন্তু একে ধরে রাখাটা ডেনমার্কের জন্য এখন অস্তিত্বের প্রশ্ন। আর সেই অস্তিত্বের লড়াইয়ে ট্রাম্পের কেনাবেচার প্রস্তাব কেবল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র। ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্রের রং বদলাবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, উত্তর মেরুর এই সাদা বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে আগামী দিনের বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে উত্তপ্ত বারুদ।

গ্রিনল্যান্ড কেন আজও ডেনমার্কের অংশ—ইতিহাস না ষড়যন্ত্র? আগস্ট ২০১৯-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বিশ্বজুড়ে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকার অংশ হলেও, ২১ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের এই বিশাল বরফাচ্ছাদিত দ্বীপটি ডেনমার্কের দখলে কীভাবে এলো, আজকের পর্বে আদ্যোপান্ত জানা যাবে।

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন: