গোল মরিচ বর্তমানে আমাদের রান্নাঘরের একটি অতি সাধারণ মসলা হলেও, গোলমরিচের আছে বিশ্বসভ্যতা বদলে দেওয়ার মত এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। অতীতে একটি দীর্ঘ সময় জুড়ে গোলমরিচ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে কৌশলগত ও মূল্যবান পণ্যের একটি। সে কারণে গোলমরিচকে বলা হতো কালো সোনা এবং অতীতে গোলমরিচ মুদ্রার বিকল্প হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

শুধু তাই নয় আজ থেকে কয়েকশো বছর আগে এই ছোট্ট কালো দানা সমগ্র বিশ্বের বাণিজ্য, রাজনীতি এমনকি যুদ্ধের গতিপথ পর্যন্ত বদলে দিয়েছিল। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই গোলমরিচের সন্ধানেই ইউরোপীয়রা ভারতবর্ষে এসেছিল এবং যার ফলে আমরা কয়েকশো বছর তাদের গোলামর শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে যাই।

মধ্যযুগে খাবার সংরক্ষণ করাটা ছিল বিরাট এক সমস্যা। সে সময় এখনকার মতো ফ্রিজ কিংবা আধুনিক প্রিজারভেটিভ ছিল না। তাই তখন খাবার দীর্ঘদিন খাবার উপযোগী রাখতে গোলমরিচ ব্যবহার করা হতো। তবে শুধু এটি গোলমরিচের একমাত্র ব্যবহার নয়। খাবারের স্বাদ বাড়াতে, পচা গন্ধ দূর করতে এবং জীবাণুনাশক হিসেবেও গোলমরিচ ব্যবহৃত হতো।

সেই সাথে ওষুধ হিসেবেও গোলমরিচের ব্যাপক চাহিদা ছিল। হজম শক্তি বাড়াতে সর্দিকাশি কিংবা নানা ব্যথা উপসমে গোলমরিচ ব্যবহারের প্রচলন ছিল। অর্থাৎ গোলমরিচ একই সঙ্গে খাবার ওষুধ এবং খাদ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির মতো একাধিক সমস্যার সমাধান হিসেবে কাজ করত।

মধ্যযুগে গোলমরিচের অতি উচ্চমূল্যের কারণে একে বলা হতো কালো সোনা। বাস্তবিক অর্থেই ইউরোপে গোলমরিচের দাম প্রায় স্বর্ণের দামের সমান ছিল। এমনকি অনেক জায়গায় গোলমরিচ মুদ্রার বিকল্প হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। বাড়ি ভাড়া, সরকারি কর কিংবা ধার দেনা পরিষদের মতো কাজে গোলমরিচ দেওয়া হতো।

তৎকালীন ইউরোপের ধনী মানুষদের ঘরে কত পরিমাণ গোলমরিচ মজুদ রয়েছে তা ছিল তাদের সম্পদ এবং আভিজাত্যের মাপকাঠি। গোলমরিচ মূলত দক্ষিণ ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উৎপন্ন হতো। আরব এবং তুর্কি বনিকরা ভারত থেকে গোলমরিচ কিনে ভূমধ্য সাগর হয়ে সেই গোলমরিচ বিক্রি করত ইতালির ভেনিস এবং জেনোয়া বন্দরে।

সেখান থেকে ভেনিসিও বনিকরা সমগ্র ইউরোপে গোলমরিচ বিক্রি করত। বহু ধাপে হাত বদল হয়ে ভারতের গোলমরিচ ইউরোপে যেতে যেতে এর দাম হয়ে যেত আকাশচুম্বি। সে সময় শুধু গোলমরিচই নয়, এর সাথে এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ এবং জয়ফলের মত মসলাও একই পথ দিয়ে ইউরোপে যেত। গোলমরিচ ছিল এই মশলা বাণিজ্যের মূলপণ্য এবং অন্য মসলাগুলো ছিল আরও বিলাসীদ্রব্য।

কথিত আছে তখনকার যুগে এক ব্যাগ জয়ফল দিয়ে লন্ডনে একটি বাড়ি কিনতে পারা যেত। ইউরোপে এসব মসলার সবচেয়ে শেষে পৌঁছাতো পর্তুগিজ এবং ওলন্দাজদের হাতে। তাই তারা মসলার সর্বোচ্চ দাম দিতে বাধ্য হতো। সে কারণে পর্তুগিজ এবং অলন্দাজরাই সবার আগে আরব এবং ভেনিশিয় মধ্যসত্ত বনিকদের এড়িয়ে নিজেরাই সরাসরি ভারতীয় এবং এশিয়ার মসলা সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ইউরোপের একাধিক দেশও তখন সমুদ্রপথে সরাসরি ভারতের সন্ধানে নামে।

তৎকালীন সময়ে আফ্রিকা ঘুরে ভারতে পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এর সম্ভাব্য লাভও ছিল অসীম। তারই ফলশ্রুতিতে 1498 সালে পর্তুগিজ নামিক ভাস্কোগামা ভারতবর্ষে পৌঁছায়। এরপর একে একে ডাচ, ফ্রেঞ্চ এবং সর্বশেষ ব্রিটিশরা এই বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। যার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল গোলমরিচ এবং অন্যান্য মসলা।

ইউরোপ থেকে সরাসরি ভারতে মসলা সংগ্রহের এই পথ পরিক্রমায় ইউরোপ বনাম আরব বনিক এবং ইউরোপীয় একাধিক দেশের মধ্যে বহু মশলার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। অতীতের এসব দামি মসলা এখন সারা বিশ্বের মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসলেও বর্তমান সময়েও একটি মসলা রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের জন্য ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আর সেটি হল জাফরান। এক কেজি জাফরানের দাম প্রায় ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই জাফরানকে বলা হয় লাল সোনা।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলা জাফরান সম্পর্কে জানতে চাইলে কি কেন কিভাবে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন

গোল মরিচকে কেন কালো সোনা বলা হয় ? —

Ki Keno Kivabe?

বর্তমান সময়ে এআই না শিখলে আপনি নিশ্চিতভাবেই পিছিয়ে পড়বেন। যারা নিজে নিজে এআই এর ব্যবহার শুরু করতে ভয় পাচ্ছেন, তারা কি কেন কিভাবে একাডেমির এআই দক্ষতা কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। ভিডিও ডেসক্রিপশন ও পিন কমেন্টে কোর্সের লিংক দেওয়া আছে।

এআই দক্ষতা কোর্স লিংক: https://kikenokivabe.com/courses/ai-skill/

কোর্স সংক্রান্ত যেকোন সমস্যায় সহযোগীতা পেতে,

  • ফেসবুকে মেসেজ করুন: https://m.me/kikenokivabeacademy
  • হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করুন: 01340-146496