পর্তুগালে বাংলাদেশিদের বদনাম কেন হচ্ছে, এই প্রশ্ন এখন অনেকের মনে। একসময় যেখানে বাংলাদেশিরা নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে যেত, সেই পর্তুগালে এখন অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আনা হচ্ছে। বিশেষ করে “পর্তুগাল বাংলাদেশ নয়!” এমন স্লোগান দিয়ে একটি ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের বিলবোর্ড প্রচারণা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পর্তুগালের নতুন অভিবাসন নীতি ও বাংলাদেশিদের অবস্থান

সম্প্রতি পর্তুগাল সরকার ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে কাজের ভিসা ছাড়া কোনো অভিবাসী পর্তুগালে আসতে পারবে না এবং অবৈধভাবে আসলে পরে বৈধ হওয়ার সুযোগও থাকবে না। এই সিদ্ধান্ত হাজার হাজার বাংলাদেশির জন্য এক দুঃসংবাদ। ২০১১ সালে যেখানে পর্তুগালে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার, সেখানে ২০১৫ সালে তা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন এমনকি জার্মানির মতো দেশ থেকেও অনেকে পর্তুগালে এসে বৈধতা পেয়েছেন।

ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান ও বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব

ডানপন্থী প্রভাবশালী নেতা আন্দ্রে ভেন্তুরার মতো রাজনীতিকরা পর্তুগালকে বাংলাদেশ নয় বলে কটাক্ষ করছেন। আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি একজন প্রার্থী এবং নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বাংলাদেশকে অসম্মান করে বিলবোর্ডও ব্যবহার করেছেন। এই ধরনের উগ্র ডানপন্থার উত্থানের কারণেই অভিবাসনকে এখন পর্তুগালে হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশিদের সাফল্য ও স্থানীয়দের আশঙ্কা

লিসবন, পোর্টো, ব্রাগার মতো বড় শহরগুলোতে অনেক ব্যবসা ও কর্মসংস্থান এখন বাংলাদেশিদের দখলে। সেখানে ভারতীয় বা পাকিস্তানিরাও এত বড় কমিউনিটি গড়ে তুলতে পারেনি। বাংলাদেশিরা রাজনীতিতেও ভালো করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বাংলাদেশি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং অনেকে মূলধারার রাজনীতিতে নেতা হয়েছেন। এই সাফল্যের কারণে স্থানীয়দের অনেকেই ভীত, এবং অন্যান্য দেশের অভিবাসীরাও আশঙ্কা করছেন যে বাংলাদেশিরা ক্ষমতার কাছাকাছি চলে যেতে পারে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একটি চক্রও এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিছু বাংলাদেশিদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড এবং এর প্রভাব

কিছু বাংলাদেশির মারামারি, ঝামেলা, কাগজের ব্যবসা, দুই নম্বরি ভেজাল এবং ফেক পণ্য বিক্রির মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডও পর্তুগিজদের মধ্যে বাংলাদেশিদের নিয়ে খারাপ ধারণা তৈরি করছে। এমনকি মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদানের বিষয়েও পুলিশিয়া জুডিসিয়ারিয়া অবহিত বলে জানানো হয়েছে। এই ধরনের বিষয়গুলো সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কমিউনিটি নেতাদের উদ্যোগ

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তারা কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও সোচ্চার হয়েছেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। তারা জানতে চাচ্ছেন, পর্তুগালে বাংলাদেশবিরোধী এই মনোভাব তৈরির পেছনে কারা দায়ী এবং এর কারণ কী। তাদের দাবি, সরকার ও কমিউনিটির পক্ষ থেকে এটি খতিয়ে দেখা উচিত।

পর্তুগালে বাংলাদেশিদের বদনাম কেন হচ্ছে, তা জানতে এই ভিডিওটি দেখুন। এটি ইউরোপে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র, অভিবাসীদের জন্য কঠিন সময় এবং পর্তুগিজদের মধ্যে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির কারণগুলো উন্মোচন করেছে।