সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঝলমলে শহরে হাধুরখীল প্রবাসীরা তাদের নিজস্ব একতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ছোট্ট একটি পাড়া, হাধুরখীল, যেখানে মাত্র কয়েক ডজন বাড়িঘর। কিন্তু এই পাড়ার তিন শতাধিক মানুষ এখন আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন। তাদের মধ্যে একাত্মতা ও ভালোবাসা এতটাই গভীর যে তারা নিয়মিতভাবে প্রবাসীদের মিলনমেলা আয়োজন করে। এই মিলনমেলা শুধু একটি গেট-টুগেদার নয়, এটি তাদের শেকড়, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক বন্ধন ধরে রাখার এক অনন্য প্রয়াস।

এক পাড়ার প্রবাসীদের মিলনমেলা

আরব আমিরাতে যারা আছেন, তাদের অনেকেই অনেক কষ্টে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। কেউ সাধারণ কর্মী থেকে আজ বড় ব্যবসায়ী। কিন্তু জন্মভূমি হাধুরখীলকে তারা ভোলেননি। বরং প্রবাসে এসে জন্মভূমির প্রতি তাদের টান আরও বেড়েছে। তাদের এই মিলনমেলায় শুধু আমিরাত নয়, কাতার, ওমান, এমনকি কুয়েত থেকেও অনেক প্রবাসী ভাইয়েরা যোগ দেন। এটি এক পাড়ার মানুষের বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা UAE Bangladeshi community-এর জন্য একটি অনুপ্রেরণা।

আমিরাতে একতার দৃষ্টান্ত

এই মিলনমেলা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, যেখানে মূল লক্ষ্য হলো একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বাড়ানো। দীর্ঘদিন পর অনেকের সাথে দেখা হয়, পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ হয়। এই আয়োজনে কমিটি নিয়ে কোনো ক্যাচাল বা মঞ্চে বসা নিয়ে হুড়োহুড়ি থাকে না। সবাই একসাথে আড্ডা দেন, খেলাধুলা করেন এবং মন খুলে আনন্দ করেন। এটি চট্টগ্রামের প্রবাসীদের মধ্যে একতা এবং ভালোবাসার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অনন্য উদ্যোগ

হাধুরখীল প্রবাসীরা শুধু নিজেদের মধ্যে আনন্দই করেন না, তারা এলাকার দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নেন। এলাকার ছেলেদের বিদেশে কাজ দিয়ে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও তারা সহায়তা করেন। এই মিলনমেলা তাদের সন্তানদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে তারা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষদের চিনতে পারে এবং নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারে। 10-15 বছর পর অনেকের সাথে দেখা হওয়া, এটি একটি অমূল্য সুযোগ যা সম্পর্কগুলোকে আরও মজবুত করে তোলে। এটি Bangladesh expat story গুলোর মধ্যে অন্যতম মানবিক গল্প।

হাধুরখীলের ঐতিহ্যবাহী মেজবান

মিলনমেলায় খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও থাকে জমকালো। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান রান্না করা হয়, যা এই আয়োজনকে আরও বিশেষ করে তোলে। মেজবানের মাংস, চনার ডাল দিয়ে গরুর মাংসের সবজি এবং আরও অনেক পদ দিয়ে পরিবেশন করা হয়। সব ভাই ব্রাদার মিলে একসাথে খাওয়া-দাওয়া করেন, যা দেশের মেজবানের অনুভূতি এনে দেয়। এটি Mezban UAE-এর এক অন্যরকম স্বাদ।

একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প

হাধুরখীল প্রবাসীদের এই মিলনমেলা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি মানবিকতা, সহযোগিতা এবং একতার এক অবিস্মরণীয় গল্প। একটি ছোট পাড়ার মানুষরা কীভাবে প্রবাসে এসেও নিজেদের মধ্যে এত গভীর বন্ধন ধরে রেখেছে, তা সত্যিই অবাক করার মতো। তাদের এই উদ্যোগ অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্যও একটি দারুণ উদাহরণ হতে পারে, যারা বিদেশে নিজেদের শেকড় ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে চান।

এই ভিডিওতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ছোট্ট একটি পাড়া—হাধুরখীল-এর তিন শতাধিক প্রবাসীর সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক জমজমাট মিলনমেলার গল্প বলা হয়েছে। এই মিলনমেলায় একই এলাকার শত শত প্রবাসী একত্রিত হয়ে ঈদের মতো আনন্দ উদযাপন করেছেন। তাদের এই আয়োজনে নেই কোনো কমিটি ক্যাচাল, নেই হুড়োহুড়ি—শুধু আন্তরিকতা আর ভালোবাসা। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, খেলাধুলা, আড্ডা—সব মিলিয়ে এটি হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক আয়োজন। এই ভিডিওতে দেখুন, কীভাবে হাধুরখীল এক পাড়া হয়েও প্রবাসে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হলো।