ব্রাজিল, যে দেশকে প্রায়শই “গরুর দেশ” বলা হয়, সেখানে মানুষের চেয়ে গবাদি পশুর সংখ্যা অনেক বেশি। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম এই দেশটিতে জনসংখ্যা প্রায় ২১ কোটি হলেও, গরুর সংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি। এই বিশাল সংখ্যক গরুর কারণে ব্রাজিলে গরুর মাংসের উৎপাদন বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ব্রাজিলে কি সত্যিই গরুর মাংস সস্তা?
কেন ব্রাজিলে এত গরু ও মাংস উৎপাদন বেশি?
ব্রাজিলের বিশাল আয়তন, প্রচুর উর্বর চারণভূমি এবং খোলা জমি থাকার কারণে এখানে গরু খুব দ্রুত বাড়ে এবং মাংসের উৎপাদনও অনেক বেশি হয়। দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তারা বিশ্বজুড়ে গরুর মাংসের চাহিদার ২০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করে। ব্রাজিলিয়ানরা গড়ে বছরে প্রায় ১০০ কেজি গরুর মাংস খায়, যা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
ব্রাজিলিয়ান মাংসের বাজার কেমন?
ব্রাজিলের মাংসের বাজারে বিভিন্ন মানের মাংস পাওয়া যায়। উচ্চমানের মাংসের যেমন চাহিদা রয়েছে, তেমনি অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের মাংসও সহজলভ্য। বাজারের পরিচ্ছন্নতা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণের প্রক্রিয়া খুবই আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত, যা একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এখানে নোংরা বা আবর্জনার চিহ্ন খুব কমই দেখা যায়।
হালাল মাংসের সহজলভ্যতা
ব্রাজিলিয়ান বাজারে বিক্রীত প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুর মাংসই হালাল নয়। যারা মুসলিম, তাদের জন্য হালাল মাংস খুঁজে পাওয়া একটি চ্যালেঞ্জ। সাওপাওলো বা রিও ডি জেনিরোর মতো বড় শহর এবং মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কিছু হালাল মাংসের দোকান রয়েছে। তবে, এই দোকানগুলোতে মাংসের দাম সাধারণত বেশি থাকে, কারণ মুসলিমরা ভালো মানের মাংস ছাড়া গ্রহণ করেন না। কিছু মুসলিম অবশ্য নিজেরা পশু কিনে হালাল উপায়ে জবাই করে মাংস খেয়ে থাকেন।
ব্রাজিলে গরুর মাংসের আসল দাম কত?
অনেকেই মনে করেন ব্রাজিলে গরুর মাংস সস্তা, কিন্তু বাস্তবে তা সব সময় সত্য নয়। ব্রাজিলের এক রিয়াল বাংলাদেশের প্রায় ২৫ টাকার সমান। বাজারে এক কেজি গরুর মাংসের দাম প্রায় ৪৫ রিয়াল থেকে শুরু হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ভালো মানের মাংসের দাম আরও বেশি, প্রায় ১০০০-১২০০ টাকা পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে। তবে নিম্নমানের মাংস ৪৫০-৪৭০ টাকার মধ্যেও পাওয়া যায়। সুতরাং, আমাদের দেশের ভালো মানের মাংসের তুলনায় ব্রাজিলে ভালো মানের মাংসের দাম কম নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে বেশিও হতে পারে।
বাংলাদেশে ব্রাজিলিয়ান মাংস আমদানির চ্যালেঞ্জ
ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে গরুর মাংস বা সরাসরি গরু আমদানির চেষ্টা চললেও এর পেছনে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার দূরত্বের কারণে জাহাজে পণ্য নিতে অন্তত দুই মাস সময় লাগে, যা জীবন্ত গরুর পরিবহনের জন্য কঠিন এবং ব্যয়বহুল। এছাড়া, মাংস সরাসরি জাহাজে নিলে তার মান, হালাল-হারামের বিষয়গুলো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ব্রাজিল বাংলাদেশের বড় মাংসের বাজারটি ধরতে আগ্রহী হলেও, সরকারি পর্যায় থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
গরুর দেশ ব্রাজিল | মানুষের চেয়ে গরু বেশি! কেরামত উল্লাহ বিপ্লবের দুনিয়ার গল্প | Karamot Ullah Biplob
এই ভিডিওতে ব্রাজিলের গরুর মাংস শিল্প, স্থানীয় বাজারে দাম, হালাল মাংসের চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশে মাংস রপ্তানির জটিলতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ব্রাজিলের বিশাল চারণভূমি, দ্রুত গবাদি পশুর বৃদ্ধি এবং তাদের খাদ্য শিল্প নীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কেরামত উল্লাহ বিপ্লবের এই ভিডিওতে আরও জানা যাবে ব্রাজিল থেকে কত টন মাংস উৎপাদন হয় এবং কেন ব্রাজিলিয়ানরা বছরে গড়ে ১০০ কেজি পর্যন্ত মাংস খায়।
যোগাযোগের জন্য: [email protected]

Leave a Reply