বিশ্বের সবচেয়ে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশ রাশিয়ার অর্থনীতি কীভাবে টিকে আছে? ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে রাশিয়ার অর্থনীতি তাসের ঘরের মতো ধসে পড়বে। ডলারের অভাবে মস্কো দেউলিয়া হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে কি তাই হয়েছে? চার বছর পেরিয়ে গেলেও, রাশিয়ার অর্থনীতি যেন অনেকটাই স্থিতিশীল। মস্কোর শপিং মলগুলোতে এখনো ভিড়, রেস্তোরাঁগুলোতে এখনো আলো জ্বলছে, আর ফ্রন্টলাইনে এখনো অবিরাম গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে রুশ কামানগুলো। দেখে মনে হবে, সবকিছুই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে, হাজার হাজার নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ছিঁড়ে রাশিয়ার অর্থনীতি কীভাবে টিকে আছে?

রাশিয়ার অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা

রাশিয়ার অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। ডলারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে এবং নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করছে। জ্বালানি রপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি দেশটির অর্থনীতিকে সচল রাখতে সাহায্য করছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, রাশিয়া তার সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা তার অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তির ইঙ্গিত দেয়।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং বিকল্প পথ

যদিও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে, তবুও রাশিয়া ডলার-মুক্ত লেনদেনের দিকে ঝুঁকেছে এবং নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি করেছে। চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করে রাশিয়া পশ্চিমা বাজারের বিকল্প খুঁজে নিয়েছে। এর ফলে, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে পতন ঘটাতে পারেনি, বরং রাশিয়াকে নতুন অর্থনৈতিক মডেল গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে।

ভবিষ্যৎ এবং চ্যালেঞ্জ

২০২৬ সালে এসেও ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে, এবং রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর চাপও বাড়ছে। যদিও দেশটি এখন পর্যন্ত ভালোভাবেই টিকে আছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং জ্বালানির বৈশ্বিক মূল্যের অস্থিরতা রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পুতিনের ‘যাদুকাঠি’ কতটা সময় কার্যকর থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাশিয়ার অর্থনীতি কীভাবে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে টিকে থাকে, তা ভবিষ্যতেই স্পষ্ট হবে।

ডলার ছাড়াই কীভাবে রাশিয়া টিকে আছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পরও রাশিয়ার অর্থনীতি কেন ধসে পড়েনি, এই পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন: