মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪৮ লাখ বাংলাদেশী কর্মরত আছেন। আবহাওয়া, পরিবেশ, খাবার এবং কর্মস্থলের ভিন্নতার কারণে প্রবাসীকর্মীদের অনেকেই সেখানে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোগেন। দেশে যেখানে বার্ষিক গড় মৃত্যুহার হাজারে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ, সেখানে প্রবাসে এই হার আরও বেশি। প্রবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ উন্নত দেশগুলোতেও নিম্ন আয়ের কর্মীরা মানসম্মত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। এই কঠিন বাস্তবতায় ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা একটি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

কেন প্রবাসীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে?

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, বিশেষ করে সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনে প্রায় ৫০ শতাংশরও বেশি প্রবাসী কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত। এর পেছনের কারণগুলো বেশ গুরুতর:

  • স্বাস্থ্যবীমার অভাব: বেশিরভাগ প্রবাসীর স্বাস্থ্যবীমা নেই, যার কারণে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের জন্য কঠিন।
  • ভাষা প্রতিবন্ধকতা: ভিনদেশী ভাষা না বোঝার কারণে অনেকে অসুস্থ হলেও ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে যেতে পারেন না।
  • চিকিৎসা প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা: আরব দেশগুলোতে ইনস্যুরেন্স না থাকলে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি, আর চাইলেই চট করে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে ডাক্তার দেখানো সহজ নয়। লাইসেন্সধারী ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনাও সম্ভব নয়।
  • দীর্ঘসূত্রিতা: অনেকে অসুস্থতা বাড়লেও দেশে এসে চিকিৎসা করানোর পরিকল্পনা করেন, যা রোগের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং অনেক সময় অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে।
  • মৃত্যুহার বৃদ্ধি: প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সংকট বাড়ার সাথে সাথে মৃত্যুহারও বাড়ছে। ২০২০ সালে ৩৯০৪ জন, ২০২৩ সালে ৪৫২ জন এবং ২০২৪ সালে ৪৮১৩ জন প্রবাসীর মৃতদেহ দেশে এসেছে, যার ৯০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসছে। বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হঠাৎ অসুস্থতাকে উল্লেখ করা হয়, যা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাবকেই নির্দেশ করে।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কি সমাধান?

প্রবাসীদের এই গুরুতর স্বাস্থ্যসেবা সংকটের সমাধানে এগিয়ে এসেছেন স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ লায়ন সালাউদ্দিন আলী। তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছে, যা প্রবাসীদের জন্য অনেক সহায়ক হতে পারে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে:

  • প্রবাসীরা কম খরচে এবং কম সময়ে নিজের ভাষায় চিকিৎসা নিতে পারবেন।
  • মোবাইল অ্যাপস বা ফোন কলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডাক্তারদের সাথে টেলিকনফারেন্সে কথা বলে পরামর্শ নিতে পারবেন।
  • দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ পাওয়ার ফলে দেশে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং জটিল পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

এশিয়ান স্পেশালিস্ট হসপিটাল ও এশিয়ান হেলথকেয়ার গ্রুপ কোভিডকালীন সময়েও সাফল্যের সাথে রোগীদের সেবা দিয়েছে, যা তাদের সক্ষমতার প্রমাণ। এই উদ্যোগ হাজারো প্রবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবন বদলে দিতে পারে।

সরকারি উদ্যোগ ও স্বাস্থ্যবীমার গুরুত্ব

প্রবাসীদের জন্য ডিজিটাল ওয়াইজ চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে এই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে প্রবাসীরা ব্যাপক উপকৃত হবেন। মানবিক দিক দিয়ে এটি অনেক আগে হওয়ার দরকার ছিল। সরকারের পরিবর্তন এবং নতুন যুগে প্রবাসীরা তাদের সুযোগ সুবিধাগুলো নিয়ে সরকারের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা প্রত্যাশা করছেন।

এছাড়াও, প্রবাসীদের স্বাস্থ্যবীমার বিষয়টি দেশ থেকেই সরকারিভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে চুক্তি করা উচিত, যাতে জরুরি প্রয়োজনে তারা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। দূতাবাস এবং কন্সুলেটগুলো এই সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারলে অনেক বাংলাদেশী কর্মী ও প্রবাসী ভাই উপকৃত হবেন। ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়ন হলে আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধারা অনেকটাই ভরসা পেতে পারেন এবং যারা এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়ন করবেন, তারা হবেন এই প্রবাসীদের সবচেয়ে আপনজন।

প্রায় ৪৮ লাখ বাংলাদেশী মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত আছেন, যাদের বেশিরভাগই কঠোর পরিশ্রমের কারণে এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোগেন। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ লায়ন সালাউদ্দিন আলী এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন একটি নতুন ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম নিয়ে। এই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের ডাক্তাররা অনলাইনে প্রবাসীদের পরামর্শ দেবেন, যা তাদের জীবন বদলে দিতে পারে।

আইডিয়া বা পরামর্শ দিতে পারেন এখানে: [email protected]