সৌদি আরবের আধুনিকায়ন এবং পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দেশটির পাহাড়ি অঞ্চলগুলোকে ইউরোপীয় ধাঁচের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এখন প্রশ্ন হলো, ইউরোপের পর্যটকরা কি সৌদিতে আসবে? সৌদি আরব চাইছে তাদের এই নতুন দিকটি বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে, যেখানে শুধু মরুভূমি নয়, বরফে ঢাকা পাহাড়ও রয়েছে।
সৌদির শীতলতম অঞ্চল, তাবুক
সৌদি আরবের কয়েকটি শীতলতম অঞ্চলের মধ্যে তাবুক অন্যতম। আর তাবুকের সবচেয়ে ঠান্ডা এলাকা হলো জাবেলে ললুস। এখানকার তাপমাত্রা প্রায় তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসে, যা শীতকালে বরফ পড়ার জন্য উপযুক্ত। সৌদি সরকার এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ তৈরি করছে। তাবুক থেকে প্রায় ১৪৫০ কিলোমিটার দূরে জাবেলে ললুস এর পথে, শরমা রোড ধরে এগোলে আপনি টরজিনা নামক একটি নতুন প্রকল্পের কাজ দেখতে পাবেন।
ইউরোপের মতো অভিজ্ঞতা সৌদিতেই
টরজিনা প্রকল্পে একটি আধুনিক হোটেল এবং বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বিশেষ করে বরফ খেলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। একসময় মানুষ বরফ দেখতে ইউরোপ বা আমেরিকায় যেত, কিন্তু এখন সৌদি আরব নিজেই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে পর্যটকরা ইউরোপের মতো শীতকালীন খেলার অভিজ্ঞতা পাবেন। প্রতি বছর জানুয়ারির দিকে এখানে প্রচুর বরফ পড়ে, যা দেখতে ইউরোপের মতোই লাগে। এই প্রকল্পটি প্রায় দুই বছর ধরে চলছে এবং এটি শেষ হতে আরও অনেক সময় লাগবে। তবে এটি সম্পন্ন হলে এটি ইউরোপের পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।
বদলে যাচ্ছে সৌদি সমাজ
সৌদি আরবে এখন ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তনও দেখা যাচ্ছে। পুরনো শপিং মলগুলোর জায়গায় নতুন আধুনিক শপিং মল গড়ে উঠছে, যেখানে সিনেমা হল এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দোকান রয়েছে। সৌদি মেয়েরাও এখন এসব জায়গায় কাজ করছে, যা আগে ছিল অকল্পনীয়। সমাজ আগের মতো রক্ষণশীল নেই, বরং কিছুটা উন্মুক্ত হয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এই সকল উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির বিনিয়োগও রয়েছে।
দুর্গম অঞ্চলে বাংলাদেশিদের কাজ
এই বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অনেক কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন। বিশেষ করে জাবেলে ললুসের মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কাজ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আনন্দের বিষয় হলো, এই সকল কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোতে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিকও অংশগ্রহণ করছেন, যারা সৌদি আরবের এই নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই স্বপ্নের প্রকল্পগুলো বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
ইউরোপের টুরিস্ট আসবে সৌদিতে! | যে দুর্গমে কাজ করছে বাংলাদেশিরা | দুনিয়ার গল্প | Karamot Ullah Biplob
সৌদি আরবে চলছে বিশাল পরিবর্তন। ইউরোপের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক সুবিধা দিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে দেশটি। এই সকল উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশিরাও কাজ করে যাচ্ছে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে ইমেল করুন: [email protected]

Leave a Reply