ঢাকার কেরানীগঞ্জের মানবিক শিল্পপতি শফিকুল ইসলাম শফিক তার ১০০০ কর্মীর জন্য যা করেন, তা শুনলে যে কেউ অবাক হবেন। তিনি শুধু একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং একজন মানবিক শিল্পপতি হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন, যিনি নিজেই তার বিশাল কারখানার কর্মীদের জন্য রান্না করেন এবং তাদের সাথে বসে খাবার গ্রহণ করেন।

কর্মীদের জন্য রান্না, এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

কেরানীগঞ্জের ধিতপুরে অবস্থিত রেপিড গ্রুপের বিশাল কারখানা চত্বরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এক ভিন্ন চিত্র। কর্মীরা সেখানে হাসিখুশি মুখে কাজ করছেন, যেন এটি কোনো কারখানা নয়, বরং তাদের দ্বিতীয় বাড়ি। দুপুরের খাবারের সময় হলে, স্বয়ং কারখানার মালিক শফিকুল ইসলাম শফিককে রান্নাঘরে দেখা যায়। তিনি কিচেন কর্মীদের নির্দেশনা দেন এবং প্রায়শই নিজে হাতে কর্মীদের জন্য রান্না করেন। রান্না শেষে তিনি খাবার ঘরে ঘুরে ঘুরে দেখেন, কর্মীদের পাতে ঠিকমতো খাবার পড়েছে কিনা, স্বাদে কোনো কমতি আছে কিনা। দাওয়াতের বাড়ির মতো এই দৃশ্যটি সত্যিই বিরল। তিনি বিশ্বাস করেন, কর্মীরা তার পরিবারের সদস্য, ভাই অথবা ছেলের মতো।

কর্মীবান্ধব পরিবেশ ও সুযোগ সুবিধা

শফিকুল ইসলামের রেপিড প্যাক লিমিটেডে কর্মীদের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এখানে কর্মপরিবেশ সুন্দর রাখতে কারখানার ভেতরেই তাদের থাকা-খাওয়া, নামাজ পড়ার ব্যবস্থা, শরীরচর্চা কেন্দ্র এবং একটি সুন্দর বাগানও তৈরি করা হয়েছে। কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়, কারণ এটি একটি প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং কারখানা যেখানে রং ও কেমিক্যালের ব্যবহার হয়। প্রতিদিন তাদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।

  • প্রতিটি কর্মীর জন্য টাইলস করা আবাসিক সুবিধা রয়েছে।
  • খাওয়া-দাওয়ার সুব্যবস্থা, এমনকি রমজান মাসে সকল খাবার বিনামূল্যে।
  • পরিবারের জন্য ঈদ উপহার এবং কোরবানির ঈদে গরু কোরবানিতে অংশগ্রহণের সুযোগ।
  • ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষের ওপরের তলায় কর্মী কর্মকর্তাদের থাকার ব্যবস্থা।
  • ভবনের ছাদে ফল ও সবজির বাগান, যার ফল কর্মীদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়।

লক্ষ্য ছিল ২০ জন, আজ ১০০০+ কর্মী

মাত্র কয়েকজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা রেপিড গ্রুপ আজ ১০০০ এরও বেশি মানুষের এক বিশাল পরিবারে পরিণত হয়েছে। শফিকুল ইসলাম জানান, হজ করার সময় তিনি দোয়া করেছিলেন যেন তার ২০ জন কর্মী ৫০০ জনে উন্নীত হয়, আল্লাহ সেই সংখ্যাকে ১০০০ ছাড়িয়ে দিয়েছেন। তার এই মানবিক আচরণ এবং কর্মীবান্ধব নীতির কারণে কর্মীরা দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি বেতন অফার করা হলেও অন্য কোথাও যান না। তাদের এই ভালোবাসাই শফিকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

পারিবারিক বন্ধন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

র‍্যাপিড গ্রুপের চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া, শফিকের বাবা, নিজ হাতে কারখানার ছাদে বাগানটি পরিচর্যা করেন। ১৭ই জানুয়ারি কোম্পানির অষ্টম জন্মবার্ষিকীতে হাজারো মানুষের ভিড় এবং কর্মীদের পরিবারের উপস্থিতি এই প্রতিষ্ঠানকে একটি উৎসবের রূপ দেয়। শফিক বিশ্বাস করেন, কর্মীরাই তার প্রতিষ্ঠানের প্রাণ, তাই তাদের ভালো থাকাটাই সবার আগে। প্রতি বছর দুজন সিনিয়র কর্মীকে লটারির মাধ্যমে ওমরাহ হজে পাঠানো হয় এবং যেকোনো সংকটে তাদের পাশে দাঁড়ানো হয়।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের রেপিড গ্রুপের এমডি শফিকুল ইসলাম শফিক ১০০০ কর্মীর জন্য এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি কর্মীদের জন্য নিজে রান্না করেন, একসাথে বসে খান এবং তাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করেন। কর্মীদের জন্য এসি রুম, জিম, নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা সহ সকল আধুনিক সুবিধা এখানে রয়েছে। এমনকি প্রতি বছর লটারির মাধ্যমে কর্মীদের ওমরাহ হজে পাঠানো হয়। এটি একজন মানবিক শিল্পপতির অবিশ্বাস্য মানবিক গল্প।

Links:
https://youtu.be/VtqfKoD9aWM