আইরিন আক্তার লিমা নামের এক মায়ের জীবনের এক অলৌকিক গল্প এটি, যেখানে ডাক্তারের দক্ষতা এবং মায়ের অদম্য সাহস মা ও শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছে। দুই বছর ধরে যক্ষ্মা ও নিউমোনিয়াসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শের বিরুদ্ধে গিয়েও গর্ভধারণের পর, শিপ হাসপাতালে এক সফল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি ও তার নবজাতক নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। এই ঘটনাটি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় মাতৃত্বের এক ভিন্ন দিক তুলে ধরেছে, যেখানে শুধু মাতৃত্বের আনন্দ নয় বরং চরম সাহসিকতারও প্রকাশ ঘটেছে। ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল এর এই ঘটনা রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছে।

আইরিনের কঠিন পথচলা

আমার নাম আইরিন আক্তার লিমা। আমার একটা চার বছরের ছেলে আছে। আর এটা আমার দ্বিতীয় সন্তান। বিভিন্ন পরীক্ষার পর আমার টিবি এবং নিউমোনিয়া ধরা পড়েছিল। এছাড়াও শরীরের রক্ত কম ছিল এবং বাম পাশের ফুসফুসে একটি ফোঁড়া হয়েছিল যা গলে যাওয়ায় ফুসফুস নষ্ট হয়ে যায়। এটি দ্রুত অপারেশন করতে হয়েছিল, কারণ ডান দিকেও জীবাণু ছড়াতে শুরু করেছিল। চিকিৎসকরা আমাকে গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকতে উপদেশ দিয়েছিলেন। তবে, পূর্বের মোলার প্রেগনেন্সির পর আমি দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ করি এবং এই হাসপাতালে ডা. সৈয়দা হুমা রহমানের আত্মবিশ্বাসে ও আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আমি আমার গর্ভধারণ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। বর্তমানে মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ আছে।

চিকিৎসকদের সাহসী সিদ্ধান্ত

শিপ হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. হুমা রহমান জানান, মে মাসে ৩৬ সপ্তাহের গর্ভবতী আইরিন তার কাছে আসেন। দুই বছর আগে ফুসফুসের যক্ষার কারণে তার বাম পাশের ফুসফুস কেটে বাদ দিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে সংক্রমণ হওয়ায় দ্বিতীয়বার অপারেশন করা হয়। এই কারণে তাকে গর্ভধারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। এর আগে মোলার প্রেগনেন্সির কারণে ভ্রূণ বাতিল করার পরামর্শ দেওয়া হলেও আইরিন রাজি হননি। তিনি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে গর্ভধারণ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ৩৬ সপ্তাহে যখন আইরিন তার কাছে আসেন, তখন আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে দেখা যায় বাচ্চার বৃদ্ধি তুলনামূলক কম। মায়ের জটিল সমস্যার কারণে গর্ভাবস্থা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান সেকশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিপ হাসপাতালের অবদান

১৮ই মে, শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে অ্যানেস্থেসিয়া ও নিউনেটোলজি বিভাগের সহযোগিতায় সফলভাবে এই অপারেশনটি সম্পন্ন হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে মা এবং বাচ্চা দুজনেই সুস্থ আছেন। শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, জাপানি অভিজ্ঞতা, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং মানসম্মত চিকিৎসায় পারে জীবন বাঁচাতে। সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য এই হাসপাতাল এখন নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে বলেও জানান চিকিৎসকরা। ডাক্তারের দক্ষতা এবং আধুনিক চিকিৎসার সমন্বয়ে একটি নতুন জীবন সম্ভব হয়েছে।

এই ভিডিওতে আমরা দেখেছি কিভাবে চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচিয়েছে, শিপ হাসপাতালের আধুনিক প্রযুক্তি ও টিমওয়ার্কের ভূমিকা এবং একজন মায়ের অদম্য সাহসিকতা ও বিশ্বাসের গল্প। থেমে যাননি আইরিন আক্তার লিমা। যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া আর অসংখ্য জটিলতা সত্ত্বেও তিনি সাহস করে গর্ভধারণ চালিয়ে যান। অবশেষে শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ডা. সৈয়দা হুমা রহমানের নেতৃত্বে সফল সিজারিয়ান অপারেশনে তিনি ও তার নবজাতক দুজনই ফিরে পান নতুন জীবন। স্বাস্থ্য ও মানবিক গল্পের আরও ভিডিও পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

যোগাযোগের জন্য: [email protected]