ইউরোপ মানেই কি ব্যয়বহুল জীবনযাপন? অনেকেই এমনটা ভাবেন। কিন্তু ইউরোপের এমন একটি শহর আছে, যেখানে জীবনযাত্রার খরচ এমনকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চেয়েও কম! শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্যি। ইউরোপের এই জাদুর শহরে মাত্র ৩০০ টাকায় পুরো এক মাস গণপরিবহনে যাতায়াত করা সম্ভব। এটি আর অন্য কোনো শহর নয়, এটি হলো সেন্ট্রাল ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট।
বুদাপেস্ট কেন এত সস্তা
বুদাপেস্টের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর অবিশ্বাস্য কম খরচের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে গণপরিবহন ব্যবস্থা এখানে এতই সাশ্রয়ী যে, দুই দিনের রিকশা ভাড়ার টাকায় আপনি পুরো এক মাস শহরের সব ধরনের যানবাহনে চলাচল করতে পারবেন। এখানকার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাস এতটাই সাশ্রয়ী যে, মাত্র ৩০০ বাংলাদেশি টাকায় মাসজুড়ে ২৪/৭ যাতায়াতের সুবিধা উপভোগ করা যায়। প্রতিদিন শত শত ইউরো খরচ করে ট্যাক্সি বা উবার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, এখানে একটি ম্যাপ অথবা আপনার ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই আপনি যেকোনো গন্তব্যে সহজেই পৌঁছাতে পারবেন।
বুদাপেস্টের গণপরিবহন ব্যবস্থা
হাঙ্গেরির যোগাযোগ ব্যবস্থা ইউরোপজুড়ে প্রশংসিত। বুদাপেস্টে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের জন্য দেড় লাখেরও বেশি গণপরিবহন রয়েছে। এর মধ্যে ট্রেন, সাবওয়ে এবং মেট্রোই আছে প্রায় ৩০০০ এর কাছাকাছি। শহরজুড়ে প্রায় ৩০০টি লাইন বা রুট রয়েছে, যার ফলে আপনি যেখানেই দাঁড়ান না কেন, তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আপনার গন্তব্যে যাওয়ার বাস, ট্রেন বা ট্রাম্প পেয়ে যাবেন। এই পরিবহনে চলাচলের খরচ বিশ্বের যেকোনো বড় শহরের তুলনায় একেবারেই কম। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ পাস, যা মাসিক মাত্র ৩০০ টাকায় সকল গণপরিবহনে অবাধে চলাচলের সুযোগ করে দেয়। এছাড়া মাত্র ৬০০ টাকায় পুরো হাঙ্গেরিতে ভ্রমণের জন্য কান্ট্রি পাস বা হাঙ্গেরি পাসও পাওয়া যায়।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া
বুদাপেস্ট শুধু সস্তাই নয়, এটি ইতিহাস আর আভিজাত্যের ছোঁয়ায় ভরা একটি শহর। দানিয়ব নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত এই শহরটি বুদা ও পেস্ট নামে দুটি অংশে বিভক্ত। এর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন রোমান সভ্যতার নানা নিদর্শন। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে দানিয়ব নদীর তীরবর্তী প্রাসাদ, এন্ড্রেসি এভিনিউ, হিরোসি স্কয়ার এবং বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ১৩২ বছরের পুরনো মিলেনিয়াম পাতাল রেলপথ। প্রতি বছর ৫০ লাখেরও বেশি পর্যটক এই শহর দেখতে আসেন, যারা এখানকার হলুদ ট্রাম এবং সবুজ লোহার সেতুর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। হলিউডের অনেক সিনেমার শুটিংও হয়েছে এই শহরে।
শিক্ষার্থীদের জন্য বুদাপেস্ট
বুদাপেস্ট ও এর আশেপাশে ডটস লোরাল ভার্সিটি, সেমেলোস ভার্সিটিসহ ৪০টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ কারণে এখানে প্রচুর বিদেশী শিক্ষার্থী বসবাস করেন, যাদের মধ্যে অনেক বাংলাদেশিও রয়েছেন। ইউরোপের অন্যান্য শহরের তুলনায় বুদাপেস্ট তাদের কাছে প্রিয় কারণ এখানে জীবনযাপন তেমন ব্যয়বহুল নয়, বিশেষ করে পরিবহন খরচ খুবই কম।
কেন বাংলাদেশিরা এখানে থাকতে চান না
এত সস্তা, সুন্দর এবং সুবিধাজনক শহর হওয়া সত্ত্বেও একটি রহস্য রয়ে গেছে। কেন অনেক বাংলাদেশি এই শহরে বেশিদিন থাকতে চান না? এই প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত। তবে মাস্টারকার্ডের উদীয়মান অঞ্চল সূচকে এই শহরের স্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়, অর্থাৎ জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে এটি মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
এই ভিডিওতে বুদাপেস্টের এমন অনেক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে যা হয়তো আপনার জানা ছিল না। ঢাকার চেয়েও কম খরচে ইউরোপের এই জাদুর শহরে কীভাবে মাস পার করা যায়, তা জানতে পারবেন। ভিডিওতে বুদা ও পেস্টের গল্প, মাত্র ৩০০ টাকায় মাসজুড়ে যাতায়াত, পর্যটকদের ভিড়, সিনেমার শুটিং স্পট, স্টুডেন্ট ও প্রবাসীদের জীবনযাপন এবং সবচেয়ে বড় রহস্য, কেন বাংলাদেশিরা এখানে বেশিদিন থাকতে চান না—সবকিছুই বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

Leave a Reply