যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ। কিন্তু সেই দেশের সরকারই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঋণের বোঝা বহন করছে। ২০২৫ সালে মার্কিন ফেডারেল সরকারের মোট জাতীয় ঋণ প্রায় ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যা এককথায় বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন।
আমেরিকান সরকারের বিপুল পরিমাণ ঋণ একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাজেট ঘাটতি, অপ্রয়োজনীয় সামরিক ও যুদ্ধ ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের সম্প্রসারণ এবং কোভিড পরবর্তী প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে আমেরিকা এত পরিমাণ ঋণে জড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ এখন তাদের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির চেয়েও অনেক বেশি। প্রায় ১২০ শতাংশের উপরে ঋণ-জিডিপি অনুপাত। সহজ বললে, দেশটি এক বছরে যত পণ্য ও সেবা উৎপন্ন করে তার চেয়েও বেশি অর্থ দেনা হয়েছে। একজন মার্কিন নাগরিকের ভাগে এই ঋণ প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ডলার।
মার্কিন সরকারের ঋণ এত বড় হওয়া সত্ত্বেও দেশটি দেউলিয়া হয়নি এবং অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়েনি। কারণ আমেরিকার ডলার বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়।
মার্কিন সরকার সরাসরি বিদেশী রাষ্ট্র বা ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেয় না; পরিবর্তে নিজেদের রাষ্ট্রীয় ঋণপত্র, অর্থাৎ ট্রেজারি সিকিউরিটিজ ইস্যু করে। বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার এই ঋণপত্র বিক্রি করে; যা কিনে থাকে মার্কিন নাগরিক থেকে বিদেশী সরকার ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা।
- ত্রিপাক্ষিক ট্রেজারি বন্ড আছে: স্বল্পমেয়াদী বিল, মধ্যমেয়াদী নোট ও দীর্ঘমেয়াদী বন্ড।
- সরকারের এক সংস্থা আরেক সংস্থাকে ঋণ দেয়, যেমন সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে।
- বিভিন্ন দেশের সরকার ও বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে, যেমন চীন, জাপান এবং ইউরোপীয় দেশ।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক মার্কিন অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে, যদিও এটি সম্পূর্ণ সরকারি নয়। এটি সরকারি ও বেসরকারি মিশ্রিত প্রতিষ্ঠান, যা ডলার ছাপানো ও ঋণ প্রদানের নিয়ন্ত্রণ করে।
অর্থনীতি ডিজিটাল হওয়ায় নতুন টাকা তৈরি করা অত্যন্ত সহজ হয়েছে; কয়েকটি ডিজিট পরিবর্তন করলেই ডিজিটাল ডলার তৈরি হয়। এই পদ্ধতিকে কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং বলা হয়, যা সাময়িক সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তির পেছনে রয়েছে বহুমুখী, উদ্ভাবন নির্ভর অর্থনীতি ও বিশ্ববাসীর ওপর আস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের আইন, রাজনৈতিক কাঠামো ও আর্থিক স্বচ্ছতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোগায়।
মার্কিন ডলার বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ লেনদেন ডলারে হয়। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি আমেরিকার সাথে তাইরকমভাবে সংযুক্ত যে তাদের দুর্বলতা বিশ্বব্যবস্থায় বড় অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
Ki Keno Kivabe?
এআই দক্ষতা কোর্স লিংক: https://kikenokivabe.com/courses/ai-skill/
কোর্স সংক্রান্ত সহায়তার জন্য ফেসবুকে মেসেজ করুন: https://m.me/kikenokivabeacademy বা হোয়াটসঅ্যাপে 01340-146496 নম্বরে যোগাযোগ করুন।

Leave a Reply