সাম্প্রতিক সময় বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম একটি আলোচিত বিষয় আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলার মধ্যকার সংকট। এটি হঠাৎ করে তৈরি হওয়া কোন দ্বন্দ্ নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে জমে ওঠা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের একটি সম্মিলিত ফল। ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি প্রধানত তেলের উপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে ভেনিজুয়েলার তেল খাতের উপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে, যা তাদের অর্থনীতিকে মারাত্মক প্রভাবিত করেছে।
ভেনিজুয়েলায় তেলের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বা অন্য পথ দিয়ে তেল রপ্তানি করার চেষ্টা করলে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আন্তর্জাতিক জলপথে বা তৃতীয় দেশ দিয়ে সেই তেলবাহী ট্যাংকারগুলো আটকায়। সাম্প্রতিক সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। আমেরিকায় আগ্রহ থাকে ভেনিজুয়েলায় তাদের মদতপুষ্ট একটি পুতুল সরকার বসানো এবং দেশের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে আনা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদ ভেনিজুয়েলায় থাকায় আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলার সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে তেল। এক সময় দুই দেশের সম্পর্ক ছিল খুব ঘনিষ্ঠ; মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো অনেক পর্যন্ত বাধাহীনভাবে কাজ করতো। কিন্তু ১৯৯৯ সালে হুগো সাভেজ ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। তিনি সমাজতান্ত্রিক পথ বেছে নিয়ে মার্কিন আধিপত্যবাদ বিরোধী রাজনীতি চালু করেন এবং তেল সেক্টরকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর ফলে আমেরিকার স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
হুগো সাভেজ বিশ্বাস করতেন লাতিন আমেরিকার দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের অধীনে। এই নির্ভরতা ভাঙার জন্য তিনি কিউবা, রাশিয়া, এবং চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। রাজনীতি ও সামরিক সহযোগিতায় রাশিয়া, ঋণ ও বিনিয়োগে চীন, এবং আদর্শগত ঐক্যে কিউবা তাদের এই সমর্থন দেয়। এটা আমেরিকার সেন্সরদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
স্যাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে নিকোলাস মাদুরো প্রেসিডেন্ট হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী অবস্থানকে আরও জোরালো করেন। ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা ২০১৭ ও ২০১৯ সালে আরো কঠোর হয়। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে অস্বীকার করে এবং ভেনিজুয়েলার তেল রপ্তানিতে বাধা উচ্চারণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ কারণে তারা সেখানে গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু ভেনিজুয়েলা বলছে এটা তাদের অর্থনৈতিক সম্পদ লুটের জন্য একটি পরিকল্পনা।
বর্তমানে ভেনিজুয়েলা লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে একটি ভূ-রাজনৈতিক দাবার কোর্টে পরিণত হয়েছে। রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং চীন ঋণ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার সরকারকে টিকিয়ে রাখার কাজ করছে। বিশ্বের বৃহৎ শক্তি গুলো এখানে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে চায় এবং তার সীমান্তে ভেনিজুয়েলার সাধারণ মানুষ সব চুরুতিতে ভুগছে।
Ki Keno Kivabe?
যারা এই বিষয় নিয়ে আরো জানার ইচ্ছা রাখেন, তারা কি কেন কিভাবে একাডেমির কন্টেন্ট রাইটিং কৌশল কোর্সের মাধ্যমে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। কোর্সের বিস্তারিত লিংক ভিডিও বর্ণনায় দেয়া আছে।
গুরুত্বপূর্ণ লিংক ও তথ্য:
- কন্টেন্ট রাইটিং কৌশল কোর্স
- ফেসবুক মেসেজের জন্য
- হোয়াটসঅ্যাপ: 01340-146496

Leave a Reply