দালালের ফাঁদে পড়ে অনেক প্রবাসী ভাইবোনেরা তাদের জীবনের সর্বনাশ করেছেন। বিদেশ মানেই যে শুধু সুখের স্বপ্ন নয়, তা বাস্তবতার নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতায় প্রমাণ করেছেন অনেকে। আজকের এই পোস্টে আমরা এমন কিছু বাস্তব গল্প তুলে ধরছি, যা শুনে আপনার মন কেঁদে উঠবে। গাইবান্ধার প্রত্যন্ত গ্রামের নারী-পুরুষেরা সুদিনের আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে বিদেশ গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে গিয়ে পেয়েছেন কেবল প্রতারণা, ক্ষুধা, কষ্ট আর বঞ্চনা। তারা শূন্য হাতে ঋণ ও হতাশা নিয়ে দেশে ফিরেছেন।
দালালের ফাঁদে হাজিরা বেগমের করুণ অভিজ্ঞতা
প্রবাসে গিয়ে যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন গাইবান্ধার হাজিরা বেগম। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গার্মেন্টসের কাজে জর্ডান গিয়েছিলেন দালালের মাধ্যমে। প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে গেলেও সেখানে গিয়ে তিনি আশানুরূপ বেতন পাননি। দুই বছরের কাছাকাছি থাকার পর তিনি নিজেই দেশে ফিরে আসেন, কারণ খরচ করা টাকাও তিনি তুলতে পারেননি। হাজিরা বেগমের জীবনে কোনো উন্নতি না হওয়ায় তিনি এখন অন্যদের পরামর্শ দেন যে, বিদেশে যাওয়ার আগে যেন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে নিজেদের কাগজপত্র ঠিকঠাক করে নেওয়া হয় এবং দালালের মাধ্যমে না গিয়ে সরকারি নিয়ম মেনে পাসপোর্ট, ভিসা সবকিছু যাচাই করে নেওয়া হয়। দেশে ফিরে তিনি গণ উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে সেলাই মেশিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন বাড়িতে কাজ করছেন, যা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন।
লিবিয়া যুদ্ধ থেকে ফিরে আসা ইমান আলীর গল্প
যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসা ইমান আলীর গল্প আরও করুণ। বড় মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন ছিল তার, কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। জীবন নিয়ে কোনোমতে দেশে ফিরলেও তিনি এখন নিজেই রোগী হয়ে গেছেন। তার আশা ছিল বিদেশে গিয়ে অনেক টাকা আয় করবেন, ধার শোধ করে পাকা বাড়ি বানাবেন এবং ছেলেমেয়েরা ভালো লেখাপড়া করবে। কিন্তু দালালের ফাঁদে পড়ে তার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এখন তিনি চেষ্টা করছেন দর্জির কাজ শিখে কোনোমতে মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন পূরণ করতে।
হাজেরা বেগমের জর্ডান থেকে ফেরার অভিজ্ঞতা
একই গ্রামের হাজেরা বেগমও জর্ডান থেকে ফিরেছেন একই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে। খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে সরকারিভাবে জর্ডানে শ্রমিক দরকার শুনে তিনি গার্মেন্টসের কাজে যান। ৩০-৩৫ হাজার টাকা বেতনের কথা বলা হলেও সেখানে গিয়ে তিনি ২০০ হাজার টাকাও বেতন তুলতে পারেননি। সাড়ে চার বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন, কারণ তার আয় দিয়ে কোনো কাজ হচ্ছিল না। ঋণ করে বিদেশে গিয়ে সে টাকা শোধ করতে পেরেছেন কিনা, তা নিয়েও তার সংশয় আছে। এখন তিনি গণ উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া একটি গরু পালন করে সংসার চালাচ্ছেন। যারা বিদেশ যেতে চান, তাদের তিনি ভালো করে যাচাই-বাছাই করে, বুঝে-শুনে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দেন।
দালালদের প্রতারণা ও করণীয়
মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কর্মীরা বলছেন, গ্রাম পর্যায়ের অভিবাসী কর্মীরা মূলত দালালদের প্রতারণার কারণে বিপদে পড়ছেন। এসব নিরীহ মানুষকে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। বিদেশে গিয়েও তারা একটি দালাল সিন্ডিকেটের কবলে পড়েন, যেখানে একই এলাকার বাংলাদেশী দালালরাই তাদের ঠকান। সহজ-সরল এই অভিবাসী মানুষজনকে নানা প্রলোভনে জিম্মি করে বেতনের একটি অংশও কমিশন হিসেবে হাতিয়ে নেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের ক্রীতদাসের মতো বিক্রিও করে দেওয়া হয়।
- বিদেশে যাওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি বা বেসরকারি নির্ভরযোগ্য সংস্থার মাধ্যমে সব তথ্য যাচাই করুন।
- নিজের ভিসা, বেতন, মালিক এবং কাজের ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
- দালালদের মিথ্যা প্রলোভনে পা দেবেন না। বাংলাদেশী নারীদের বিদেশ যেতে সাধারণত টাকা লাগে না, এই তথ্যটি অনেকেই জানেন না।
- কোনো রকম সমস্যায় পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।
গণ উন্নয়ন কেন্দ্র এবং অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাগুলো এসব দেশিহারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। অসচেতনতাই আমাদের গ্রামীণ মানুষদের সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলছে। আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই এবং দালালের ফাঁদে পড়ে আর কেউ যেন সর্বস্বান্ত না হন, সেই প্রত্যাশা করি।
এই ভিডিওতে দালালের ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রবাসী নারী ও পুরুষদের মর্মস্পর্শী বাস্তব কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। গাইবান্ধার প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক মানুষ সুদিনের আশায় বিদেশ গিয়ে কীভাবে প্রতারণা, ক্ষুধা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, তা এখানে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, বাংলাদেশের রেমিটেন্সের পেছনের লুকানো এক বেদনার কাহিনি। আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না এবং এই ভিডিওটি শেয়ার করুন যেন আরও মানুষ সচেতন হতে পারে।
আপনার যেকোনো মন্তব্যের জন্য আমাদের ইমেল করতে পারেন: [email protected]

Leave a Reply