বাংলাদেশে এমন একটি গ্রাম আছে যেখানে টানা ১৬ বছর পুরুষরা থাকতে পারেননি। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামটি ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক অদ্ভুত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে পুরুষরা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছিল ‘পুরুষশূন্য গ্রাম’ বা ‘ভুতুড়ে গ্রাম’ হিসেবে।

১৬ বছরের বিভীষিকাময় দিন

২০০৮ সালের পর থেকে বাগবাড়ি গ্রাম এক রাজনৈতিক রোষানলের শিকার হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গ্রামের বাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি পুরো জেলায় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের অত্যাচারে গ্রামের পুরুষদের উপর নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। মামলা-হামলা, লুটপাট ও নির্যাতনের ভয়ে শত শত পুরুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। কেউ কেউ ঢাকার মতো দূর শহরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন, আবার কেউ মাসের পর মাস পাটক্ষেত বা জঙ্গলে রাত কাটিয়েছেন।

এই সময়ে গ্রামের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ:

  • নারীরা সর্বদা আতঙ্কে দিন কাটাতেন, কখন পুলিশ বা লুটেরারা আসে।
  • শিশুরা তাদের বাবাদের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে মা ও দাদী-নানীর কাছে বড় হয়েছে।
  • গ্রামের দোকানপাট ও বাজার প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, অর্থনীতিতে নেমে এসেছিল স্থবিরতা।
  • তুচ্ছ ঘটনাতেও জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানো হতো, যার ফলে সাধারণ মানুষ হাজিরা দিতেও ভয় পেত।
  • বাগবাড়ির মানুষের নাম কেটে উন্নয়ন বরাদ্দ জেলার অন্য এলাকায় দেওয়া হয়েছিল, রাস্তাঘাট মেরামত হয়নি এবং বাজারগুলোতেও বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ ছিল।

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে বাগবাড়ি গ্রামে আবার প্রাণের স্পন্দন ফিরে এসেছে। যে পুরুষরা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন, তারা এখন ঘরে ফিরছেন। সন্তান ও পরিবারের সাথে নতুন করে জীবন শুরু করছেন। গ্রামের পরিবেশ এখন উৎসবমুখর, যেখানে আগে তালা ঝুলেছিল বাড়ি বাড়ি, নারীরা আতঙ্কে দিন কাটাতেন এবং শিশুরা ভয়ে বাইরে খেলতে যেত না, সেখানে এখন নতুন করে জীবন ফিরেছে।

গ্রামের দৃশ্যপট বদলে গেছে। বাজারের নতুন দোকানপাট উঠছে, মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। বিগত দিনে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা জিয়া পরিবারের দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগে তারেক রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গ্রাম্য হাসপাতালটি, এখন আবার ঝলমলে। পাশের সরকারি হাসপাতাল থাকলেও রোগীরা এখানে আসছেন এবং ডাক্তাররা নিয়মিত তাদের দেখছেন। নামমাত্র ফিসে ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। গ্রামের ভাঙা রাস্তাঘাটেও ইটের সলিং হয়েছে, যা উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে।

বাগবাড়ির মানুষজন যেন বিগত দিনের রাজনৈতিক হিংসা আর রোষানলের কথা ভুলতেই পারছেন না। শুধু জিয়ার বাড়ি এই এলাকায় এটাই যেন তাদের অপরাধ হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পুরুষশূন্য গ্রামটি আবারও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে, যা সততা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আপনি কি জানেন, বাংলাদেশে এমন একটি গ্রাম আছে যেখানে টানা ১৬ বছর পুরুষরা থাকতে পারেননি? হ্যাঁ, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পুরুষদের অনেকেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন। মামলা-হামলা, লুটপাট ও রাজনৈতিক রোষানলে গ্রামটি অশান্ত হয়ে উঠেছিলো। নারীরা কাটিয়েছেন আতংকে দিন, শিশুরা বাবাহীন বড় হয়েছে, বাজার-দোকান প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর এখন আবারও সেই গ্রামে ফিরেছে মানুষ, দোকানপাট, বাজার আর উৎসবের আবহ। এই ভিডিওতে জানুন— কেন ১৬ বছর পুরুষশূন্য ছিলো একটি গ্রাম, বাগবাড়ির মানুষ কিভাবে কাটিয়েছে সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলো এবং এখন কীভাবে আবার জীবন ফিরে পাচ্ছে গ্রামটি। ইতিহাস, রাজনীতি আর মানবিক কষ্টের মিশেলে এই ভিডিও আপনার দৃষ্টি খুলে দেবে।

যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চান, তাহলে [email protected] এ ইমেইল করুন।