বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক কিছুই সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু আপনি কি এমন কোনো বিয়ের কথা শুনেছেন, যেখানে বর এক দেশে আর কনে ও অতিথিরা অন্য দেশে বসে পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন? হ্যাঁ, সম্প্রতি গাজীপুরের বানিয়ার চালায় এমনই এক আজব অনলাইন বিয়ে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন শত শত গ্রামবাসী। লন্ডনে বর মামুন আর গাইবান্ধার কনে রোদশীর এই ভার্চুয়াল বিয়ে রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভার্চুয়াল বিয়ের কারণ কি?

প্রবাসে থাকা পাত্র-পাত্রীদের জন্য বিয়ের আয়োজন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ প্রস্তুতি, দেশে আসা-যাওয়ার খরচ, আত্মীয়-স্বজনের উপহার এবং বিশেষ চাহিদা মেটানো – এসবই বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তাই, সময় ও অর্থ বাঁচাতে এখন অনেক প্রবাসীই অনলাইন বিয়েকে বেছে নিচ্ছেন। মামুন ও রোদশীর ক্ষেত্রেও ৮ হাজার কিলোমিটার দূরের এই বিয়ে সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তির হাত ধরেই।

গাজীপুরের উৎসবমুখর পরিবেশ

লন্ডনে বর-কনে থাকলেও গাজীপুরের বানিয়ার চালায় বসেছিল বিশাল আয়োজন। দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনরা এসেছিলেন এই ব্যতিক্রমী বিয়ে দেখতে। দুপুরের খাবার শেষে সবাই মাগরিবের পর সানিয়ানার নিচে বসেছিলেন। প্রজেক্টরের আলোয় তখন ঝলমল করছিল বিয়ের মঞ্চ। বর-কনে লন্ডনে বসে ভিডিও কলের মাধ্যমে কবুল বলেছেন, আংটি বদল করেছেন। গ্রামবাসীরা এমন আধুনিক ভার্চুয়াল বিয়ে দেখে অবাক এবং আনন্দিত হয়েছেন।

  • ভিডিও কলের মাধ্যমে কবুল বলা ও আংটি পড়ানো।
  • পরিবারের সদস্যদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ।
  • গ্রামবাসীদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা।

প্রযুক্তির সুবিধায় নতুন ধারা

এই অনলাইন বিয়েতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনই পারিবারিক বন্ধন এবং আনন্দও অটুট থাকছে। যদিও কিছু মুরুব্বি ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে এর বিরোধিতা করছেন, তবে আধুনিক যুগের চাহিদা এবং পরিস্থিতির কারণে অনেকেই এই নতুন প্রথাকে মেনে নিচ্ছেন। মামুন ও রোদশীর বিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে, প্রযুক্তি কীভাবে দূরত্ব ঘুচিয়ে মানুষকে কাছাকাছি আনতে পারে এবং ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানগুলোকে নতুন রূপে উদযাপন করতে সাহায্য করতে পারে।

প্রবাসীরা সময় ও অর্থ বাঁচাতে এখন দেদারসে করছেন অনলাইন বিয়ে। লন্ডনে থাকা মামুন আর গাইবান্ধার রোদশীর বিয়েও হলো ঠিক এমনভাবেই—ভিডিও কলে, ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে বসে! এই ভিডিওতে দেখুন মামুন-রোদোশীর অনন্য বিয়ের আয়োজন, যেখানে প্রযুক্তি মিশে গেছে প্রথার সাথে, আর তৈরি হয়েছে ভিন্ন স্বাদের পারিবারিক আনন্দ।

mail us at [email protected]! We’d love to hear from you.