সুন্দরবন ক্রুজ: ৩ দিনে ৫০০ কিলোমিটার জঙ্গল ভ্রমণ কি সম্ভব? বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বিস্ময় সুন্দরবন, যার আয়তন প্রায় ১০০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এই বিশাল ম্যানগ্রোভ বনভূমি পৃথিবীর আর কোথাও নেই। বিশ্বের ছোটখাট অন্তত ১৫টি দেশের সমান এই বনভূমি তার অবারিত সবুজ আর জীববৈচিত্র্য নিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে। সম্প্রতি, বেসরকারি এক কোম্পানির বিলাসবহুল জাহাজ ‘আরাল সি’ এই সুন্দরবনের গভীরে এক অসাধারণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। তিন রাত তিন দিনের এই প্যাকেজ আপনাকে নিয়ে যাবে ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি নৌপথে, যেখানে আপনি প্রকৃতির এক অন্যরকম রূপ দেখতে পাবেন।

আরআরআলসি: সুন্দরবনে এক ভাসমান আবাসন

আরআরআলসি শুধু একটি জাহাজ নয়, যেন এটি একটি ভাসমান আবাসন। ৫৮ জন অতিথি ধারণ ক্ষমতার চারতলা এই জাহাজ চলে প্রায় নিঃশব্দ ইঞ্জিনে। প্রতি তিনজন অতিথির জন্য তাদের আছে একজন ক্রু বা সেবাকর্মী। সুন্দরবন ভ্রমণে নতুন এই মাত্রা যোগ করেছে আরআরসি। তাদের তিন রাত তিন দিনের প্যাকেজ রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। এই জাহাজে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ীভাবে সিওটু স্থাপন করা আছে এবং বন প্রহরী ছাড়াও তারা নিজস্ব পাহারাদার দেন পায়ে হাঁটা ও নৌকায়।

  • প্রতিদিন হরেক পদের ছয় বেলা খাবার, ফলমূলের নানা পানীয়, মধু ও আচার।
  • স্থানীয় সুন্দরবনের মাছ, তাজা ফল ও সবজি পরিবেশন করা হয়।
  • শক্তিশালী ইঞ্জিনের দুটি নৌকা সবসময় আরআরআওসির জাহাজে বাঁধা থাকে জরুরি প্রয়োজনে।
  • পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধার্থে বন জঙ্গলের স্থানীয় বাসিন্দারাই ক্রু হিসেবে কাজ করেন।

এক অনন্য সুন্দরবন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

এই সুন্দরবন ক্রুজ আপনাকে আমাজনের মতো এক জঙ্গল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেবে। পর্যটকরা এখানে সুন্দরবনের বিভিন্ন জাতের হরিণ, কুমির, সাপ, পাখি, বানরসহ অনেক বন্যপ্রাণী দেখতে পান। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই জাহাজের কর্মীরা প্রায় সবাই ভ্রমণের সময় নানা তথ্য জানাতে থাকেন। জাহাজে আযান দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার ব্যবস্থা আছে। দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুন্দর থাকার কামড়া আছে, যেখানে চার, তিন, দুই এমনকি এক বিছানার কাপল কামড়াও বিদ্যমান।

অনেক পর্যটক মনে করেন, “থাইল্যান্ড মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে বাংলাদেশী যেকোন মানুষের সুন্দরবন কনসিডার করা উচিত।” এটি সত্যিই একটি লাইফটাইম মেমরি তৈরি করে। নিরিবিলি পরিবেশে সুন্দরবনের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য নীরবতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা এখানকার পাখির কলকাকলি এবং প্রকৃতির নিজস্ব সুর শুনতে সাহায্য করে।

বিশ্বমানের ইকো-ট্যুরিজম: বাংলাদেশের আমাজন

সুন্দরবনের এই ধরনের ক্রুজ টুরিজম ব্যবস্থা আমাজন বনের ক্রুজ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। ইউনেস্কো 1997 সালে এই বনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়, কারণ এই সময়ে বাঘ জঙ্গল থেকে বেশি বের হয়। কচিখালি, কটকা, জামতলায় প্রায়ই বাঘের পায়ের ছাপ এবং মাঝেমধ্যে বাঘও দেখা যায়। পরিবেশবান্ধব মানসম্মত ব্যবস্থাপনায় সুন্দরবনও বিদেশী পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য হতে পারে।

বুকিং টিপস এবং যোগাযোগ

আরআরসি জাহাজে সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ নিতে চাইলে আগেভাগে যোগাযোগ করতে হবে। প্রায়শই এটি ফুল থাকে, তাই অন্তত এক থেকে দুই মাস আগে বুকিং করা ভালো। এমনকি তিন মাস আগেও বুক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সুন্দরবনে আমাজনের মতো জাহাজ আরাল সি আপনাকে দেবে ৩ দিনে ৫০০ কিলোমিটার জঙ্গল ভ্রমণের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এটি একটি বিলাসবহুল ‘ফ্লোটিং জাঙ্গল ক্রুজ’, যেখানে ৫৮ জন অতিথির থাকার ব্যবস্থা, ৬ বেলা খাবার এবং আজানের পরিবেশ রয়েছে।

যোগাযোগ: ০১৬১৬৭৭৭৭৮৮ (বুকিং আগে করে রাখুন, প্রায় সময় ফুল থাকে!)

ইমেইল: [email protected]