৫৪ বছর পর নিজের জন্মভূমিতে ফিরে আসার গল্প, যেখানে মিশে আছে শৈশবের স্মৃতি আর হারানো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাকুলতা। সৈয়দ খুরশিদ ইমাম, একজন আমেরিকান নাগরিক, যিনি ১৯৭১ সালের বিভীষিকা আর যুদ্ধের ডামাডোলে পরিবারসহ চট্টগ্রাম ছেড়েছিলেন। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর তিনি ফিরে এসেছেন সেই চেনা মাটির টানে, শৈশবের বন্ধুদের খুঁজতে।
শৈশবের স্মৃতিচারণ
১৯৭১ সালের আগে সৈয়দ খুরশিদ ইমামের বাবা চট্টগ্রামে ইস্পাত কারখানার ব্যবসা করতেন। চট্টগ্রাম ছিল তাদের বসতবাড়ি। কিন্তু যুদ্ধের দামামায় সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়, তাদের কারখানা লুট হয়। পরিবার নিয়ে জাহাজে করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তারা। সেই সময় থেকেই তাদের মনে রয়ে গেছে শৈশবের অনেক অমলিন স্মৃতি।
৫৪ বছর পর, আমেরিকার মিশিগান থেকে আসা সৈয়দ খুরশিদ ইমাম বাংলাদেশে ফিরে এলেন তার বাল্যবন্ধুদের খোঁজে। খুলনাতে আরআরসি জাহাজে তার দুই বন্ধু জাকি হায়দার ও খলিল আহমেদের সাথে দেখা হয়। বহু পুরনো স্মৃতি সাথে নিয়ে তারা সুন্দরবন দেখতে যান।
এই তিন বন্ধু একসাথে হাঁটছেন, গল্প করছেন, খাচ্ছেন। তারা কটকা, কচিখালি, হারবাড়িয়া, জামতলা সৈকত পরিদর্শন করেন। জঙ্গলের মধ্যে বহু পথ হাঁটেন, এমনকি একবার বৃষ্টিতে ভিজেও যান। তাদের বাংলা বলার ক্ষমতা কমে গেলেও, তারা বোঝেন সব কথা।
ফিরে আসার কারণ
জাকি হায়দার, যিনি মিশিগানে থাকেন এবং অবসপ্রাপ্ত অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার, সাগরপড়ে হাঁটতে হাঁটতে ৫৪ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসার কাহিনী বলেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ১৪ই এপ্রিল তারা বাংলাদেশ ছেড়ে যান।
তবে গল্পের মূল নায়ক খুরশিদ ইমাম ক্যামেরার সামনে কথা বলতে কিছুটা ইতস্তত করছিলেন। অফ ক্যামেরায় তিনি জানান, তারা মূলত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। বাপ-দাদার পৈতৃক ব্যবসার কারণে চট্টগ্রামে বসবাস করতেন। যুদ্ধের সময় সবকিছু হারিয়ে এমভি শামস জাহাজে করে চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে যান। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সেন্ট প্লাসিড স্কুল এবং জুবিলি রোডের নিজেদের বাড়ি ঘিরে তার রয়েছে অজস্র স্মৃতি। সেই পুরনো বন্ধুরা এখনো অনেকেই আছেন, যাদের খুঁজতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ছুটেছেন এই তিন বন্ধু।
বাংলাদেশ এবং এখানকার মানুষ কেমন লেগেছে, জানতে চাওয়া হলে তিন বন্ধু আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ, এখানকার খাবার, আর আন্তরিকতা সবকিছুই খুব ভালো লেগেছে। সময় সুযোগ পেলে তারা আবারও ফিরে আসবেন বাংলার গ্রাম, প্রকৃতি আর সংস্কৃতি দেখতে। আমেরিকায় থাকলেও বাংলাদেশের প্রতি তাদের ছোটবেলার টান আজও অটুট রয়েছে।
এই ভিডিওটিতে আপনি দেখতে পাবেন ৫৪ বছর পর নিজের মাটিতে ফিরে আসা এক প্রবাসীর আবেগঘন প্রত্যাবর্তন, যেখানে বন্ধুত্ব, স্মৃতি আর দেশের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধ ও প্রবাসের মধ্যেও কীভাবে মাটির টান বেঁচে থাকে, তার এক অসাধারণ প্রমাণ এই গল্প।
আরও এমন অনুপ্রেরণামূলক বাস্তব গল্প জানতে চাইলে Duniyar Golp-এর ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।
mail us at [email protected]

Leave a Reply