ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার জন্মভূমি ভিলা ফিওরিতো, আর্জেন্টিনার এক সাধারণ গ্রাম। এই গ্রামে গিয়েছিলাম তার শৈশবের বাড়ি দেখতে। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ম্যারাডোনার এই বন্ধুরা কিভাবে দূর দেশ বাংলাদেশকে চিনতে পারলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো এক দারুণ গল্প!
ম্যারাডোনার জন্মভূমি: ভিলা ফিওরিতো
বুয়েনস আইরেস শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয় ভিলা ফিওরিতো। গাড়ি চালিয়ে প্রায় ২০-২৫ মিনিটের পথ। এটি আসলে একটি বস্তি, যেখানে দিনমজুর ও কুলি শ্রেণির মানুষের বসবাস। তবে এখন কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, কিছু বাড়ি চকচকে হয়েছে, নতুন রাস্তা, ক্লাব, স্কুল ও খেলার মাঠ তৈরি হয়েছে। এই গ্রামের প্রতিটি দেয়াল যেন প্রিয় ম্যারাডোনার প্রতিচ্ছবি বহন করে।
ম্যারাডোনার শৈশবের বাড়ি
যে জরাজীর্ণ ঘরটিতে ম্যারাডোনা ১৯৬০ সালের ৩০শে অক্টোবর জন্মেছিলেন, সেটি এখনো আগের মতোই আছে। তার বাবা দন দিয়েগো ছিলেন দিনমজুর এবং মা দোনা তোতা গৃহিণী। আট ভাইবোনের সংসারে খাবারের যোগান দিতে ম্যারাডোনার বাবা অনেক কষ্ট করতেন। ম্যারাডোনা তার মা-বাবার প্রতি ছিলেন অসম্ভব ভক্ত ও শ্রদ্ধাশীল। জীবনের এক পর্যায়ে তিনি এই বাড়িটি তার বাবা-মার কাজের সহকারীর শাশুড়িকে উপহার দিয়ে যান।
রাস্তার ফুটবলার ম্যারাডোনা
এই ভিলা ফিওরিতোর রাস্তা ও মাঠেই ম্যারাডোনা ফুটবল শিখেছেন। স্কুল থেকে ফিরে খালি পায়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রাবারের বল নিয়ে কসরত করতেন সেই ছোট্ট ছেলেটি। তার কোনো ক্লাব বা প্রশিক্ষণ কোচ ছিল না; তার শিক্ষা ছিল রাস্তায়, নিজের মতো করে। ম্যারাডোনা নিজেও বহুবার বলেছেন যে তিনি যা শিখেছেন তা রাস্তায় ফুটবল খেলেছেন। তাই এই জরাজীর্ণ বাড়িটি ম্যারাডোনা ভক্তদের কাছে এক দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে।
বন্ধুদের ফুটবল ক্লাব ও বাংলাদেশ
আট বছর বয়স থেকেই ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনোস জুনিয়রস ক্লাবে খেলতেন, যার দলের নাম ছিল লস সেবুলিটাস। তার বাল্যবন্ধুরা মিলে এখন ম্যারাডোনার বাড়ির পাশে ভিলা ফিওরিতিতে একটি ফুটবল ক্লাব করেছেন, যা এখন ম্যারাডোনার ফুটবল ক্লাব নামে পরিচিত। ম্যারাডোনা বিশ্বনায়ক হওয়ার পরও বেশ কয়েকবার গ্রামের এই ক্লাবে এসে বন্ধুদের সাথে খেলেছেন ও আড্ডা দিয়েছেন। এই গ্রামের মানুষ ম্যারাডোনাকে তাদের দেবতা মনে করে। যখন আমরা ম্যারাডোনার বন্ধুদের সাথে কথা বলছিলাম, তখন তারা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন যে বহু দূরের দেশ হলেও তারা এবং এই গ্রামের অনেকেই বাংলাদেশকে চেনে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থনে যে উন্মাদনা হয়, তা তারা দেখেছেন।
বস্তি থেকে বিশ্বনায়ক হয়ে ওঠা ম্যারাডোনার গ্রামের বাড়ির গল্প জানতে এই ভিডিওটি দেখুন! এটি শুধু ফুটবলের গল্প নয়, দারিদ্র্য, স্বপ্ন আর মানুষের হয়ে ওঠার এক দারুণ কাহিনী। ম্যারাডোনার শৈশবের বাড়ি, তার বন্ধুদের মুখে শোনা গল্প—আর অবাক করা এক সত্য: এই গ্রামেও মানুষ বাংলাদেশ চেনে।
#VillaFiorito #BangladeshLovesMaradona #TravelBangla
যোগাযোগ: [email protected]

Leave a Reply