ভাঙা হাড় জোড়া দেওয়া কেন এত কঠিন — এটা জানতে গেলে আমাদের প্রথমেই বুঝতে হবে হাড় ভাঙার প্রকৃতি ও চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ হাড় ভাঙার সমস্যায় পড়েন এবং অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অক্ষমতা ও জটিলতা দেখা যায়।
পরিসংখ্যান বলছে প্রতি বছর আনুমানিক ১৭ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের হাড় ভেঙে। এর ফলে ভাঙা হাড় জোড়া দেওয়া এবং সফলভাবে সুস্থ করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে রয়ে গেছে।
ভাঙা হাড় জোড়া দেওয়া — মূল অসুবিধাগুলো
- হাড়ের জটিল আর্কিটেকচার ও অঙ্গভিত্তিক ভাঙ্গন (comminuted fractures) যাতে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।
- শরীরের ভেতরের ভেজা ও রক্তমাখা পরিবেশে অনেক আঠা কার্যকর নাও হতে পারে।
- ধাতব প্লেট, স্ক্রু বা রড বসাতে সব সময় উপযুক্ত জায়গা বা টুকরো থাকে না।
- লম্বা ও জটিল অস্ত্রোপচারের ফলে রোগীকে অতিরিক্ত ঝুঁকি ও পুনরায় প্লেট অপসারণের প্রয়োজন পড়ে।
- সংক্রমণ, টিস্যু ও স্নায়ু ক্ষতি এবং বস্তুর প্রতি দেহের প্রতিক্রিয়া (যেমন বায়ো-অ্যাসোসিয়েশন) সমস্যা সৃষ্টি করে।
কেন পুরনো চেষ্টা গুলো ব্যর্থ হয়ো
শতাব্দী জুড়ে গবেষকরা জেলাটিন, ইপোক্সি, প্রোটিন ভিত্তিক আঠা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেছেন। অনেক উপাদান ছিল বিষাক্ত অথবা ভেজা পরিবেশে কার্যকর হত না, আবার চাপসহ্য ক্ষমতা কম ছিল। তাই এ রকম আঠা দিয়ে বাস্তবে দ্রুত ও স্থায়ীভাবে হাড় জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি।
নতুন সমাধান: বোন জিরো টু (Bone02)
সাম্প্রতিককালে চীনের সেনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ঝিনুকের আঠা অনুকরণ করে একটি প্রোটিন-ভিত্তিক আঠা তৈরি করেছেন, নাম Bone02 বা বোন জিরো টু। এটি ল্যাব পরীক্ষায় দুই থেকে তিন মিনিটেই শক্ত বন্ধন গঠন করেছে এবং টান সহ্য ক্ষমতা প্রায় ৪০০ পাউন্ড (প্রায় ১৮১ কেজি) পৌঁছেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো এটি বায়োডিগ্রেডেবল — প্রায় ছয় মাসে শরীর ধীরে ধীরে শোষণ করে নেয়।
বোন জিরো টু কিভাবে সমস্যাগুলো কাটাতে পারে?
- দ্রুত সেট হওয়া — অপারেশন সময় কমে যায় এবং সার্জিকাল ঝুঁকি কমে।
- ভেজা পরিবেশেও কার্যকর — শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থায় কাজ করার উপযোগী।
- বায়োডিগ্রেডেবল হওয়ায় ভবিষ্যতে প্লেট অপসারণের দরকার পড়বে না।
- কমপ্লেক্স ও ছোট হাড়ের ভাঙনেও সম্ভাবনা বাড়ায়, যেখানে প্রচলিত ধাতব যন্ত্রপাতি ব্যর্থ হয়।
চতুর্প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ ও সীমাবদ্ধতা
যদিও প্রাথমিক ট্রায়ালে ১৫০ এর বেশি রোগীর ওপর ভালো ফল দেখা গেছে, বাণিজ্যিক ব্যবহারের আগে আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন দরকার। ভবিষ্যতে দাঁতের ইমপ্লান্ট, মেরুদন্ডের ফিউশন সার্জারি এবং অন্যান্য অরথোপেডিক কাজেও এর ব্যবহার টেস্ট করা হচ্ছে।
সংক্ষেপে
ভাঙা হাড় জোড়া দেওয়া এত কঠিন কারণ হাড়ের ভাঙা প্রকারভেদ, ভেজা পরিবেশে কাজ করার চাহিদা, উপযুক্ত যন্ত্রপাতি না থাকা এবং শরীরের প্রতিক্রিয়া। তবে বায়োইনস্পায়ার্ড আঠা যেমন বোন জিরো টু নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে অনেক রোগীর জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
অতিরিক্ত তথ্য ও উৎস:
ডাইভেনশন ম্যাগাজিন থেকে এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা নেওয়া হয়েছে। ম্যাগাজিন অর্ডার করতে পারেন: https://trsp.link/trspmagazines
কুপন কোড: KiKenoKivabe10 (ওয়েবসাইটে ব্যবহার করে ডিসকাউন্ট পেতে পারেন)
কিকেনকিভাবে ফেসবুক পেজ: https://www.facebook.com/kikenokivabe
সাবস্ক্রাইব লিংক: https://goo.gl/sBmcKv
ওয়েবসাইট: https://kikenokivabe.com/
যোগাযোগ: [email protected]
নোট: ভিডিওতে ব্যবহৃত তথ্য বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা; সম্পূর্ণ প্রফেশনাল চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

Leave a Reply